Posted By motivation Posted On

ময়মনসিংহের শহরের কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়

বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়—ঢেলা, শোল, বাইম, রানি, কাজলি, বাতাসি, কাকিলা, কাওন ও ভোল মাছের প্রজনন এবং চাষপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের শহরের কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে দেশি নানা রকমের মাছ বিক্রি হচ্ছে। মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেও দেশি মাছগুলো বাজারে সচরাচর পাওয়া যেত না। পাওয়া গেলেও, দাম ছিল নাগালের বাইরে।

কিন্তু এখন প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। দামেও সাশ্রয়ী। আরেকজন বলেন, দেশি মাছ খেতে সুস্বাদু এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় তিনি নিয়মিত এসব মাছ কেনেন।

বাণিজ্যিক মাছের পাশাপাশি দেশি মাছ চাষে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে নেত্রকোণা সদরের মাছচাষি মো. নুরুল আমিন বলেন, দেশি মাছের বাজারে চাহিদা থাকায় এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় স্বল্পপুঁজিতে ভালো লাভ হয়। ফলে এখন অনেকেই এসব মাছ চাষে ঝুঁকছেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের দ্য এম ও অ্যাগ্রো ফিশারিজের মালিক কুদরত-ই-ইলাহী জানান, দেশি প্রজাতির পাবদা এবং গুলশা প্রতি শতাংশে ২২০টি, পুঁটি মাছ ৩০০, ট্যাংরা ২৫০, শিং ও মাগুর ৪৫০টি করে চাষ করা সম্ভব।

এসব মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে তাঁদের সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা খরচ হয় এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ এখন আর নেই।

ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৯২৬টি হ্যাচারি আছে। যেখানে মাছ ও চিংড়ির রেণু উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারি হ্যাচারি ১০২টি এবং বেসরকারি ৮২৪টি।

বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বছরে মোট রেণু উৎপাদনের পরিমাণ ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ কেজি। এর মধ্যে বেসরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯৫ কেজি এবং সরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করছে মাত্র ১২ হাজার ৫৯ কেজি রেণু।

এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২০০ কোটি পাবদা ও গুলশা মাছের পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে পাবদা, গুলশা, শিং, ট্যাংরা, মাগুর, কই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, বাটা মাছের চাষও বাড়ছে।

আমাদের দেশে মোট মৎস্যোৎপাদনের মাত্র ১৬ শতাংশ (৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন) সামুদ্রিক মাছ। বাকি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ ৮৪ শতাংশই মিঠা পানির মাছ।

Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *