দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ১৭টি পরামর্শ

Suggestions to change attitudes

পরামর্শ বন্ধুর মতো। আর একটি ভালো পরামর্শ তার চেয়েও মূল্যবান এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। ঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন পরিবর্তন করতে পারবেন, তেমনি আগে যেসব সমস্যা সমাধানে অপারগ ছিলেন, এখন তার সমাধান বের করতে পারবেন—যা আপনাকে ঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন মানুষের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অর্জিত হওয়া এমন ১৭টি পরামর্শের কথা আমরা জানব—যা শিক্ষনীয় ও যথেষ্ট। বলা যায়, এগুলোর চর্চা আপনার জগতকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে।

১৭টি পরামর্শ

১. আপনি যদি বিব্রত হন, তবে তা শুধুই বিব্রতকর।

২. উচ্চ বিদ্যালয় শেষ হয়, কিন্তু কেউই তা শেষ হওয়ার পর মাথা ঘামায় না। সে কারণে নিজের জন্য একটি ভবিষ্যত গড়তে শিখুন, এমনকি কলেজে থাকার সময়েও। আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যখন আপনি যেখানে আছেন, সেখান থেকেই।

৩. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি ভালো কর্মনীতি রপ্ত করা শিখুন। এটি আপনার জীবনকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

৪. কোনো বিষয়ে গোলমাল পাকানোর পর তার দায়িত্ব নিতে তৈরি থাকুন। এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

৫. আপনি আজ যা করছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি এর জন্য আপনার জীবনের একটি দিন ব্যয় করছেন—যে সময় আর ফিরে আসবে না।

৬. আপনি যদি কোনো ভুল করে সঙ্গে সঙ্গেই তা স্বীকার করেন, তাহলে লোকেও তা বেশিদিন মনে রাখবে না। ভুল করে কখনোই অস্বীকার করতে যাবেন না। কারণ আপনি যতই তা করবেন, ততই লোকে আপনাকে ভুল প্রমাণিত করতে এগিয়ে আসবেন।

৭. নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে অন্যদেরকে আরাম করার সুযোগ করে দেবেন না। অন্যদেরকে উষ্ণতা সরবরাহ করার জন্য আপনার নিজের গায়ে আগুন লাগানোর দরকার নেই।

৮. নিজেকে সঠিক প্রমাণের জন্য তর্ক করবেন না। বরং নিজেকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে তর্ক করুন।

৯. আমরা অন্যদেরকে তাদের কর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করি। আর নিজেদের বিচার করি আমাদের অভিপ্রায় দিয়ে।

১০. আপনি যদি ভাবেন আপনি কিছু একটা জানেন, তাহলে এমন কাউকে খুঁজে বের করুন যারা সে বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

১১. অন্যদের ঘিরে নিজের কোনো কিছুর পরিকল্পনা করবেন না। আপনি যদি গান শিখতে চান, জিমে যেতে চান বা ভ্রমণে যেতে চান, তাহলে নিজে নিজেই সব করুন। কেউ যদি আপনার সঙ্গী হতে চায় তাকে সঙ্গে নিন, কিন্তু তাদের ওপর ভরসা করবেন না।

১২. ভয় পান! কিন্তু তারপরও কাজটি করুন! কোনো কাজ করতে গিয়ে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসলে চলবে না। বরং ভয় পাওয়ার পরও তা যে কোনো মূল্যে করতে হবে।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ১৭টি পরামর্শ

১৩. কোনো কিছু নিয়ে অযথা মানসিক চাপে ভুগবেন না। আপনি যদি কোনো কিছু ঠিক করতে পারেন, তাহলে তা করুন। কিন্তু আপনার যদি সে বিষয়ে কিছুই করার না থাকে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে অযথা মানসিক চাপে ভুগবেন না। কারণ এতে শুধু অযথাই সময় ও শক্তির অপচয় হবে।

১৪. নিজেকে ক্ষমা করুন। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে নিজেকে তিরস্কার করলে তা বদলে যাবে না। এতে বরং আপনি আরো বেশি তিরস্কৃত হবেন। অতীতে কেন ভালো হলো না, তা নিয়ে যতই মাথা ঘামান না কেন, তাতে তা বদলে যাবে না। আপনি অতীতে যেমন ছিলেন, তা মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সেখান আটকে থাকলে চলবে না।

১৫. আপনি যদি মন থেকে কোনো কিছু করতে না চান, তাহলে তা করতে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।

গল্পকথা : স্ত্রী তার স্বামীকে নষ্ট স্টোভটি ঠিক করতে বললেন। স্বামী কিছু যন্ত্রপাতি যোগাড় করে স্ত্রীকে খুশি করার জন্য লেগে পড়লেন। কিন্তু এতে তিনি পরিস্থিতি আরো গোলমেলে করে তোলেন। এতে স্ত্রী স্বামীকে নিষ্কর্মা বলে গালি দেন! এবং বলেন, মিস্ত্রি ডেকেই তিনি তা ঠিক করিয়ে নেবেন।

এরপর ওই লোক তার ১০ বছরের সন্তানের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটা তোমার জন্যও একটি শিক্ষা। তুমি যদি কিছু করতে না চাও, তাহলে ভালো সাজার জন্য তা করতে যাবে না।

১৬. যে কোনো পরিস্থিতিতে খামখেয়ালি আচরণ বা আবেগ প্রকাশ করা ঠিক না। ধরুন আপনার বন্ধুর মা মারা যাচ্ছে। এমন সময় যদি আপনি কোনো বিষয়ে আবেগ প্রকাশ করতে চান বা খামখেয়ালি আচরণ করেন, তা ঠিক হবে না। এর জন্য আপনার সামনে এখনো পুরোজীবন পড়ে রয়েছে।

১৭. কাউকে এই প্রত্যাশা নিয়ে বিয়ে করবেন না যে, তিনি আপনার চাওয়া মতো বদলে যাবেন বা একইরকম থাকবেন।

গল্পকথা : এক নারী তার শবযাত্রায় এই কথাটি উচ্চস্বরে উপদেশ দিয়ে যান যে, কাউকে এই প্রত্যাশা নিয়ে বিয়ে করবেন না যে, তিনি আপনার চাওয়া মতো বদলে যাবেন বা একইরকম থাকবেন। আর ছোটখাটো জিনিস যদি আপনাকে সুখী করতে না-পারে, তাহলে বড় জিনিসও আপনাকে সুখী করতে পারবে না।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

—ডেস্ক মোটিভেশন

…………………

পড়ুন

হাসি নিয়ে ৩৪টি বিখ্যাত উক্তি

আমন্ত্রণ

শুভ বাংলাদেশ

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন...
Tags: , , , , , , , , ,

motivation

motivation

One thought on “দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ১৭টি পরামর্শ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Top